Open Book Exam 2025: এবার বই খুলেই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বোর্ডের! নবম শ্রেণীর পরীক্ষায় থাকছে বিরাট পরিবর্তন।

Open Book Exam 2025: নবম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার হলে বই খুলে উত্তর লেখার সুযোগ পাবে। এই নতুন পরীক্ষা পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ওপেন-বুক অ্যাসেসমেন্ট (Open Book Assessment বা OBA)।

গত জুন মাসে সিবিএসই-এর সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আপাতত এটি শুধু নবম শ্রেণীর জন্য চালু হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য শ্রেণীতেও এই পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বোর্ড।

Read More: এয়ারপোর্ট অথরিটিতে ৯৭৬টি জুনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ! মাসিক বেতন শুরু ৪০,০০০ টাকা।

ওপেন-বুক অ্যাসেসমেন্ট (OBA) কী?

ওপেন-বুক অ্যাসেসমেন্টে (Open Book Exam 2025) পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা চলাকালীন নিজেদের পাঠ্যবই, ক্লাস নোট বা অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষাসামগ্রী সঙ্গে রাখতে পারবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদ্ধতি চালু করার মূল উদ্দেশ্য ছাত্র-ছাত্রীদের মুখস্থ বিদ্যার উপর নির্ভরতা কমানো এবং বিশ্লেষণী ও প্রয়োগ ক্ষমতা বাড়ানো। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন ২০২৩-এর নির্দেশিকা অনুসারেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকেই ভাবতে পারেন, বই খুলে পরীক্ষা (Open Book Exam 2025) মানে তো সহজে দেখে দেখে উত্তর লেখা। কিন্তু বাস্তবে প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরি হবে, যাতে শুধুমাত্র বই থেকে হুবহু নকল করে উত্তর লেখা সম্ভব না হয়। পরীক্ষার প্রশ্ন হবে বিশ্লেষণমূলক ও যুক্তিভিত্তিক, যেখানে বিষয়বস্তু বোঝা ও প্রয়োগ করার ক্ষমতা যাচাই করা হবে। এর ফলে মুখস্থ নির্ভর পড়ুয়াদের তুলনায় যারা বিষয়টি গভীরভাবে বুঝে পড়াশোনা করবে, তারাই ভালো নম্বর পাবে।

Read More: ডিএলএড প্রশ্নপত্র ভাইরাল? ফাঁস রুখতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কড়া নজরদারি।

কোন কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?

বোর্ডের ঘোষণামতে, প্রথম পর্যায়ে ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান এই চারটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ওপেন-বুক পরীক্ষা (Open Book Exam 2025) চালু হবে। পরীক্ষার সময় ছাত্র-ছাত্রীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ক্লাস নোটও ব্যবহার করতে পারবে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয় , ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরাই এই সুবিধা নিতে পারবে, আর পরীক্ষার ধরন বেছে নেওয়ার বিষয়ে স্কুলেরও নিজস্ব নীতি থাকতে পারে।

অতীত অভিজ্ঞতা

উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ওপেন-বুক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ছিল গড়ে ১২% থেকে ৪৭% এর মধ্যে। ফলাফল বিশ্লেষণ করে বোর্ড দেখে যে, বই দেখে লেখার সুযোগ থাকলেও প্রশ্নের বিশ্লেষণধর্মী প্রকৃতির কারণে অনেকেই প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। এতে বোঝা যায়, এই ধরনের পরীক্ষায় কেবল মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং যুক্তি, বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

সম্ভাব্য প্রভাব (Open Book Exam 2025)

বোর্ড ও শিক্ষাবিদদের ধারণা, এই নতুন পদ্ধতি ছাত্র-ছাত্রীদের চিন্তাশক্তি, গবেষণামূলক মনোভাব ও বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থ নির্ভরতা থেকে সৃজনশীল ও বিশ্লেষণভিত্তিক শিক্ষার দিকে নিয়ে যাবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও বিশ্বাস, শিক্ষার্থীরা এভাবে আরও উৎসাহ নিয়ে পড়াশোনা করবে এবং পরীক্ষার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে।

Gautam Mondal is the owner and content creator of the WB Tathya website. With over six years of experience in crafting engaging social media content, he has honed his skills in writing and digital communication. Gautam holds a Bachelor of Arts degree from Barasat University and is passionate about delivering insightful and impactful content to his audience.

Leave a Comment